দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও অসন্তোষ।
ভাতা বাড়লেও তা সীমাবদ্ধ রয়েছে কেবল দুটি পদের মধ্যে—প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এতে করে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কি পোলিং কর্মকর্তারা, এমন প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সচিব আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার ভাতা বাড়ানো হবে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে কেবল প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের। পোলিং কর্মকর্তাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি এখনো ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে।
আগের নির্বাচনগুলোতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ৯ হাজার টাকা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ৭ হাজার টাকা এবং পোলিং কর্মকর্তারা ৫ হাজার টাকা করে সম্মানি ভাতা পেতেন। এবারের নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভাতা এক হাজার টাকা বাড়িয়ে ১০ হাজার এবং সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভাতা বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে যাতে তারা স্থানীয় রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তির আতিথেয়তা গ্রহণ না করেন। কিন্তু পোলিং কর্মকর্তাদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
এ বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। রূপালী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইসির অর্থ ও বাজেট শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মহিদ খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করুন।’
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আসাদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন পরিচালনায় পোলিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার তালিকা দেখে ভোট দিতে আসা ভোটারদের শনাক্ত করা, উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ঘোষণা করা এবং কোনো আপত্তি না থাকলে অমোচনীয় কালি দিয়ে ভোটার চিহ্নিত করার দায়িত্ব পালন করেন তারাই। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য।
এদিকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি জানায়, এই প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এতে অংশ নিচ্ছেন ৮ লাখেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন