ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেশি বিএনপিতে : এইচআরএসএস

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
এইচআরএসএস-এর সংবাদ সম্মেলন। ছবি- সংগৃহীত

ত্ৰয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ জন নিহত এবং প্রায় ৯৭০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক, ১৫০টির বেশি স্থানীয় পত্রিকা এবং জেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তপশিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে মোট ১৬২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বিএনপির তিন জন, জামায়াতের একজন এবং ইনকিলাব মঞ্চের একজন কর্মী রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৪০টি ঘটনায় অন্তত ৩৩৪ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৬০ জন এবং নিহত হয়েছেন একজন। এ ছাড়া বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ২ জন, বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ৩৯ জন এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের সংঘর্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, প্রচার-প্রচারণার সময় নারী হেনস্তা, হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটেছে। তপশিল ঘোষণার পর জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১২টি ঘটনায় ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। হেনস্তার শিকার নারীদের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত সমর্থক এবং একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যে ১১টিতে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং একটি ঘটনায় জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

তপশিল ঘোষণার পর থেকে ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও বেড়েছে। ২৫টি ঘটনায় অন্তত ৩৪ জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ঘটনায় বিএনপি, একটি ঘটনায় জামায়াত এবং ৯টি ঘটনায় অন্যান্য দল বা প্রার্থীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসবের মধ্যে ১৭টি ঘটনা সরাসরি হুমকি এবং ৮টি ঘটনা হামলার।

এ ছাড়া প্রচারকালীন সময়ে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে অন্তত ১৩ জন প্রার্থী পৃথক ১৩টি ঘটনায় হেনস্তা, লাঞ্ছনা বা হামলার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন: এইচআরএসএস-এর প্রধান উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী মো. নুর খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার আব্দুল কাদিরসহ অন্যান্যরা। তারা  বলেন, ‘বিগত নির্বাচনি তপশিল ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়ে গেছে এবং সবচেয়ে বেশি কোন্দল দেখা গেছে বিএনপির মধ্যে।’