বইমেলা নিয়ে বিতর্ক যেন শেষই হচ্ছে না। প্রতি বছর ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া প্রাণের বইমেলা এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। এ মেলায় দেশের মূলধারার সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বেশিরভাগই অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে। ক্ষুব্ধ প্রকাশকরা বলছেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ শত শত প্রকাশকের প্রাণের দাবি ও অস্তিত্বের সংকটকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে বইমেলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তে ‘প্রাণহীন’ আয়োজন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে ‘মানবিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয় মেনে নেবে না প্রকাশকসমাজ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, এর আগে বাংলা একাডেমি গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বইমেলা আয়োজনের যে ঘোষণা দিয়েছিল, নির্বাচনের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থন না থাকায় তা বাতিল হয়। এখন আবার কোনো অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি করে ২০ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরুর তারিখ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রকাশকদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশকরা বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রোজার দিনে বইমেলা শুরু হলে পাঠক ও দর্শনার্থী আসবেন না। পাঠক ও ক্রেতা ছাড়া বইমেলা কেবল একটি ‘নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা’ ছাড়া আর কিছুই হবে না। এ ছাড়া মানবিক বিপর্যয় ও মানবাধিকার, নিশ্চিত অর্থনৈতিক বিপর্যয়সহ নানা কারণে এ সময়ে মেলার আয়োজন উপযুক্ত নয়।
তারা জানান, এরই মধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের প্রকাশকরা লিখিতভাবে রোজার মধ্যে মেলা না করার এবং ঈদের পরে মেলা আয়োজনের পক্ষে সম্মতি ও মত দিয়েছেন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার আয়োজিত জুম মিটিংয়ে উপস্থিত সব প্রকাশক তাদের আগের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থা ‘অন্যপ্রকাশ’-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, সারা দিন রোজার পর ইফতার ও তারাবির নামাজের ব্যস্ততা থাকবে সাধারণ বইপ্রেমীদের। এই অবস্থায় সহজেই ধারণা করা যায়, মেলায় লোকসমাগম হবে খুবই কম। চূড়ান্ত ক্ষতির মুখোমুখি হবে দেশের প্রকাশনা শিল্প। আমরা অর্থাৎ দেশের সৃজনশীল প্রকাশকরা এরই মধ্যে প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা এবং একটি কার্যকর ও সফল বইমেলা আয়োজনের স্বার্থে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর সময়সূচি পরিবর্তনসহ চার দফা দাবি জানিয়েছি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কোনো রেসপন্স পাইনি। এরপর অতিসত্বর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
আপত্তি জানানো প্রকাশকদের মধ্যে অন্যতম হলেন: মেছবাহউদ্দীন আহমদ (প্রকাশক, আহমদ পাবলিশিং হাউজ); এ.কে নাসির আহমেদ (প্রকাশক, কাকলী); মাজহারুল ইসলাম (প্রকাশক, অন্যপ্রকাশ); মনিরুল হক (প্রকাশক, অনন্যা); সৈয়দ জাকির হোসাইন (প্রকাশক, অ্যাডর্ন); জহির দীপ্তি (প্রকাশক, ইতি প্রকাশন; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬); মাহ্রখ মহিউদ্দীন (প্রকাশক, ইউপিএল; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬); মাহাবুব রাহমান (প্রকাশক, আদর্শ; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬); মোবারক হোসেন (পান্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন); ইকবাল হোসেন সানু (প্রকাশক, লাবনী); মিজানুর রহমান (প্রকাশক, শোভা প্রকাশ); ইফতেখার আমিন (প্রকাশক, শব্দশৈলী) প্রমুখ।

