গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গত দেড় বছর ধরে সুপরিকল্পিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাহিনীর নিবিড় তদারকিতে সম্প্রতি হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্নীতির একটি অভিযোগ উদ্ঘাটিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, টিডিপি দলনেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনি ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব প্রদানের নামে জনপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়।
ঘটনাটি উদ্ঘাটনের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ার্ড দলনেতা মামুন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি আধুনিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। সংশোধিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে তারুণ্য ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার এবং AVMIS সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে কেবল প্রকৃত ও বৈধ সনদধারীদের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাল সনদ শনাক্তকরণ, অনিয়ম প্রতিরোধ ও ঘুষ বাণিজ্য নির্মূলে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মহাপরিচালক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের প্রধান শর্ত। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেশ ও জনগণের প্রতি অর্পিত পবিত্র আমানত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশব্যাপী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে যে, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমান প্রশাসন স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য কিংবা প্রভাবিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় আমানতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান শুধু বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধাচার নিশ্চিত করছে না, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রতি জনআস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকেও আরও সুদৃঢ় করছে।

