ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের বিজয়ীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদের মধ্যে বিএনপি ২১২টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জিতেছে।
বিজয়ী সংসদ সদস্যরা আগামী সোম বা মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করবেন। নির্বাচনের পরবর্তী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সংসদের আনুষ্ঠিক কার্যক্রম শুরু হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এসব আসনের ভোট আয়োজন করবে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোট দেবেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা।
এবারের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে লড়াকু ডা. তাসনিম জারাকে সংসদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন পোস্টে লিখেছেন, বিএনপি ২১২ আসনে জয়ী হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসনে তারা ন্যূনতম ৩৪ জন সংসদ সদস্য পাঠাতে পারবে। ফলে, এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা তাসনিম জারাকে বিএনপির পক্ষ থেকে সংসদে পাঠালে বিষয়টি ‘ইন্টারেস্টিং’ হবে।
অন্য একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এনসিপি একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। তাসনিম জারাকে দলে ফিরিয়ে তাকে সংরক্ষিত আসনে সংসদে পাঠানো উচিত।
ফারাহ জাবীন লিখেছেন, ‘আমি দাবি জানাই তাসনিম জারা ও ডা. মনীষাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য করার। আমি জানি না এটা কোনো নিয়মের বাইরে কি না, তবুও দাবি জানিয়ে রাখলাম।’
এ ছাড়াও আরও একাধিক পোস্টে তাসনিম জারাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চেয়ে সাধারণ মানুষকে ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে প্রাথমিক ফলে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ বিজয়ী হয়েছেন। তার কাছে হেরে ওই আসনে তাসনিম জারা ৪৪,৬৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
এদিকে তার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে।’
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ‘নির্বাচন পরবর্তী কিছু ভাবনা’ বিষয়ে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য আমরা এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ। আর আপনাদের সঙ্গে এই পথ চলা আমার জন্য সম্মানের।’

