ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বঙ্গভবনে নয়, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
সংসদ ভবন। ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহ্য ভেঙে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে একইদিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উপলক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাচনী ফলাফল ও সরকার গঠন
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৩০০ আসনের সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের চেয়ে অনেক বেশি অর্থাৎ দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে।

শপথ ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়া
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় দলের নেতা নির্বাচিত করা হবে। এরপর নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন এবং সরকার গঠনের অনুরোধ জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। পরবর্তী ধাপে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভা গঠন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এই পদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম প্রায় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভা গঠন ও শপথ প্রক্রিয়া
সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী যেমন নির্ধারণ করবেন, সে অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন। নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের অন্তত ৯০ শতাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ পেতে হবে। বাকি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি অর্থাৎ টেকনোক্র্যাট কোটায় মনোনীত হতে পারবেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়াবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন তিনি। শপথ অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারা দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নতুন সরকার গঠিত হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে দায়িত্বরত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে এবং নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।