বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক ডামাডোল ও বারবার নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস পেছনে ফেলে দলটি এবার সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে, এবারের সংসদে নারী সংসদ সদস্যের নজিরবিহীন স্বল্পতা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল সমালোচনা।
বারবার নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে এবার সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় জামায়াতে ইসলামী
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জামায়াতে ইসলামী বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ঠিক আগে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর আগে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬৪ সালে বিভিন্ন মেয়াদে দলটি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল হিসেবে কুখ্যাতি থাকা জামায়াত এবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
১৯৫৮ সাল : তৎকালীন সেনাশাসক আইয়ুব খান সব দলের সাথে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছিলেন।
১৯৬৪ সাল : এই বছরের জানুয়ারিতে দলটিকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়, তবে বছরের শেষদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
১৯৭১ সাল : মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলে জামায়াতকে কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছিল।
২০২৪ সাল : সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক দিন আগে, অর্থাৎ ৩১ জুলাই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
জামায়াতের সংসদে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নেওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই আশঙ্কা করছিলাম এবং রাজনৈতিক বন্ধুদের বারবার সতর্ক করেছি। সচেতন রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে তৈরি করা না গেলে দেশ বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে, যা এখন দৃশ্যমান।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে রাজনৈতিক শক্তির জোট তৈরি করতে না পারলে, বর্তমান সংকট থেকে দেশ সাময়িকভাবে মুক্তি পেলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি শঙ্কার মুখে পড়বে।’
১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশে নারী প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সংসদ সদস্যের উপস্থিতি ছিল এক ইতিবাচক দিক। কিন্তু বর্তমান সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাম, কেউই নারী নন। এ ছাড়া, সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা মাত্র সাতজন, যা নিয়ে প্রবল সমালোচনা চলছে।
(১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় কোনো আসন পেতে সক্ষম হলো। এবার তারা রাজধানী ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১১ সালে শীর্ষ নেতাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার কারণে দল হিসেবে কতটা এগোবে, সে সন্দেহ রয়েছে। যদিও কেবল দেড় দশকের ব্যবধানে দেশের প্রধান দুটি দলের একটি হিসেবে ৭৭টি আসন নিয়ে সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল জামায়াত।

