ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যে ৬ শ্রেণির মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছয় ধরনের মানুষও ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার বাইরে থাকবে। ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১০ মার্চ দেশব্যাপী প্রাথমিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় দেওয়া হবে এই কার্ড। প্রতি মাসে সুবিধাভোগীরা আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাবেন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। নীতিমালাটি খুব শিগগির প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

জানা গেছে, কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ধরনের মানুষের পরিবারকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। এতে রয়েছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী-হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং দশমিক ৫ একর বা তার কম জমির মালিক পরিবার।
 
তবে পরিবারের কেউ যদি সরকারের পেনশনভোগী হয়, তাহলে সেই পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে না। একইভাবে বাড়িতে এসি ব্যবহার করা, গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদ থাকা, সরকারি চাকরি করা বা বড় ব্যবসার মালিকানা থাকলেও এই কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা থাকবে না।

সরকারের সম্ভাব্য চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের ছয় ধরনের মানুষও সুবিধার বাইরে থাকবে।
 
মূলত বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি ওয়াদা ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। সরকার গঠনের পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ কর্মসূচি শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই কার্ডের মধ্য দিয়ে পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীকে দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে। আর বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় এ কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হবে বলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

এ ছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রোধে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করছে সরকার। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য এই ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে।
 
এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রতি মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এ অর্থ ও পণ্যসেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে।
 
জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে নির্বাচিত ওয়ার্ডে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী চূড়ান্ত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। কারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এ সুবিধা নিতে চাইবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

আবেদন কোথায় করবেন

পাইলট কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়, সরকারি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল (যা চালুর প্রক্রিয়া চলছে) থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
 
ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। ঈদের আগে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এর পর থেকে এটা চলতে থাকবে।