গত এক সপ্তাহ ধরে দাবদাহের পর অবশেষে কিশোরগঞ্জে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম, ঠিক তখনই এই বৃষ্টি জনজীবনে প্রশান্তি এনেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে জেলা সদর, পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর, ইটনা-সহ বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের তীব্র গরমে স্থবির হয়ে পড়েছিল কিশোরগঞ্জের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। ফলে দুপুরের এই বৃষ্টি যেন ঊষর মরুভূমির বুকে পরম এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৃষ্টিতে চারপাশের তপ্ত আবহাওয়া নিমেষেই শীতল হয়ে যায়। পাকুন্দিয়া পৌর সদরের বাসিন্দা আসাদ মিয়া বলেন, “ঈদের পর থেকেই বৃষ্টির কোনো দেখা ছিল না। প্রতিদিন তীব্র রোদের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরায় কোনো শান্তি পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি এলো।”
মোফাজ্জল হোসেন নামের আরেকজন জানান, কয়েক দিনের টানা গরমে ছোট-বড় সবাই চরম দুর্ভোগে ছিল। আজকের এই বৃষ্টিতে মনে প্রশান্তি এসেছে।
দুপুরের বৃষ্টির পর জেলা সদর ও পাকুন্দিয়ার ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্বস্তি দেখা গেছে।
জেলা সদরের শাফায়েত বলেন, “গরমের কারণে জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। আজকের বৃষ্টিতে যে কী ভালো লাগছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
টানা দাবদাহের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় হওয়া এই বৃষ্টি একদিকে যেমন জনজীবনে স্বস্তি এনেছে, অন্যদিকে তাপপ্রবাহে ঝিমিয়ে পড়া প্রকৃতি ও রোপণকৃত ফসলেও নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, বেলা ১১টার পর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমে এসেছে। আগামীকাল শুক্রবারও (৫ জুন) জেলা জুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

