ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির বৈঠক

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন । ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী সভার ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. এলখরেইজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদৌ এনজির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানেরও প্রশংসা করেন তারা। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী গত বছর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বৈঠকের স্মৃতি উল্লেখ করে জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় আছেন। নতুন সরকারের অধীনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানান। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সৌদির ভিশন ২০৩০ কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতে সৌদি সরকার প্রস্তুত। 

জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশেও সৌদি বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। এ ছাড়া ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন তিনি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। 

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে ফিলিস্তিন সরাসরি প্রার্থী না হলেও বাংলাদেশ নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবে। এ সময় ফিলিস্তিনি মন্ত্রী জানান, আরব ও ইসলামি দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের পক্ষে অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও উল্লেখ করেন।

উভয়পক্ষ চলতি বছরের এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়।