ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

দায়িত্বে অবহেলা, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া শুরু ইসির

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার এক ভোটকেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্বে উপস্থিত না হওয়ায় তাকে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

রোববার (৮ মার্চ) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তের খবর রাঙামাটি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (হেলিসটি) ভোটকেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ আল মামুন দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন, যা নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)-এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, আইনটির ৫(৩) ধারা অনুযায়ী তাকে ২ মাসের জন্য চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের জন্য ইসি এবং অন্তর্বর্তী সরকার শাস্তির বিধান কঠোর করেছে। সম্প্রতি ‘নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এই শাস্তিগুলো কার্যকর করা হয়েছে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রধান দিকগুলো হলো

১. দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতির শাস্তি: যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা এবং জেল শাস্তি হতে পারে।

২. দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের শাস্তি: নির্বাচনি দায়িত্বে ভুল বা অবহেলার জন্য সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয়ই।

৩. ইসির একচ্ছত্র ক্ষমতা: কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তি নিতে ইসির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ধরা হবে।

৪. আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি: পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারাও নির্বাচন কর্মকর্তার শাস্তির আওতায় আসবেন।

৫. অন্যান্য পদক্ষেপ: অভিযোগের তদন্ত ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং শাস্তি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফাইলে (PDS) রেকর্ড করা হবে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ইলেকশন প্রোটেকশন অ্যাপ-২০২৬’ চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে এবং দায়িত্বে অবহেলা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।