বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে আটক করেছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটককৃতরা হলেন, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালীতে, এবং আলমগীর হোসেন (৩৪), বাড়ি ঢাকা। এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সদর দপ্তর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাযন। পরে তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তার ভারত সফরের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৭ ও ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। জানা গেছে, তারা সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


