ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ঈদের আগেই প্রায় সব পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ : বিজিএমইএ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, আসন্ন ঈদ ফিতরের আগেই দেশের প্রায় সব পোশাক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে এমনই কথা বলেছেন

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে ‘ঈদ উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। 

তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা। বাকি দুটি কারখানায় বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইভাবে, ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন হয়েছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায়, এবং অবশিষ্ট চারটি কারখানায় বোনাস দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম পরিশোধ করেছে বলেও জানান তিনি।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি দেবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি- এই তিনটি বড় চাপ শিল্পকে প্রভাবিত করছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব রপ্তানিনির্ভর এই শিল্পে পড়তে পারে।

দেশীয় চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনো নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতিও শিল্পকে চাপের মধ্যে রেখেছে।

তিনি বলেন, ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও অনেক উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছেন। কিছু কারখানায় আর্থিক সংকট থাকলেও মালিক, ব্যাংক ও শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সমন্বয়ে সেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত কোনো কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে এখন আর কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নেই।

সরকারের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং দ্রুত ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা প্রদান উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সর্বশেষে তিনি ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং সরকারের প্রতি মহাসড়কে নজরদারি জোরদারের অনুরোধ জানান, যাতে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা যায়।