রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় দর্শনার্থীর ছদ্মবেশে সক্রিয় একটি প্রতারক চক্র যাত্রীদের লক্ষ্য করে অভিনব কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা দ্রুতগতিতে ব্যাগ র্যাপিংয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই মাসে মোট ৩৬ জনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা বিমানবন্দরের প্রবেশপথের কাছাকাছি গোলচত্বরের বাইরে অবস্থান নিয়ে যাত্রীদের টার্গেট করত। যাত্রী দেখলেই তারা ব্যাগ মোড়ানোর প্রস্তাব দিত এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করত।
প্রতারকদের পদ্ধতিও ছিল চতুর। তারা প্যান্টের নিচে লুকিয়ে রাখা পলিথিন মুহূর্তেই বের করে দ্রুত ব্যাগ মুড়িয়ে ফেলত। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী বিভ্রান্ত হয়ে তাদের সেবা গ্রহণ করতেন এবং পরে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হতেন।
যাত্রীদের একাধিক অভিযোগের পর এপিবিএন বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ফেব্রুয়ারি মাসে ২১ জন এবং মার্চে আরও ১৫ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন।
এপিবিএন জানিয়েছে, বিমানবন্দরের বহির্গমন কনকোর্সে নির্ধারিত মূল্যে ব্যাগ র্যাপিংয়ের জন্য আধুনিক মেশিন রয়েছে। যাত্রীদের এসব অনুমোদিত সেবা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন