পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে গত ১৫ দিনে দেশে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন। এছাড়া আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ বা চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
ঈদুল ফিতরের আনন্দযাত্রায় দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
সড়ক পথের করুণ দশা সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৬ জন। ২০২৫ সালের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, এই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৭৮ জন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ শতাংশই ছিল বাইক দুর্ঘটনা। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের তালিকায় মোটরসাইকেলের পর রয়েছে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান (১৭.৭৩%), বাস (১৬.২২%) এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা (১৫.২৮%)।
অন্যান্য পথের পরিসংখ্যান সড়কপথের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও নিরাপদ ছিল না। রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জন।
যুদ্ধে হতাহতের চেয়েও বেশি! সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের চেয়েও বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে।
ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগ মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঈদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সরকারি সভাগুলোতে প্রভাবশালী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের চাপে নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ উপেক্ষিত থেকে গেছে, যা পরোক্ষভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন