ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবি ডিআরইউ’র

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছরেও বিচার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা না হওয়ায় তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের কাছে সাগর-রুনির খুনিদের বিচার দাবি জানান তারা। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা। 

'বিচারের বাণী নির্ভতে কাঁদে' এই প্রতিবাদ্য নিয়ে সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে ডিআরইউ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্য মন্ত্রীকে সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি সভাপতি আবু সালেহ আকন।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হয়েছে। অথচ হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছিল। মামলার তদন্তে 'প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে' বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আন্তরিক ছিল না। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় ১২৫ বার পিছিয়েছে। এখন পর্যন্ত চারটি সংস্থাকে এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছে পিবিআই। আসলে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকায় এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

বিএনপি সরকারের কাছে বিচার দাবি করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকারাদীরে মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারে, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিল বা প্রভাব ছিল। এখন নতুন সরকার এসেছে। তারা আশা করছেন, বিএনপি সরকার জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করবে এবং এই তদন্তের বিষয়ে আন্তরিক দেখাবে। 

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বয়স মাত্র দেড় মাস। ডিআরইউ আশা প্রকাশ করছে এই সরকার শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে। যদি বর্তমান সরকারও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপরও ব্যর্থতার দায় বর্তাবে। আগামী বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের পর যদি সেখান থেকে কোনো ইতিবাচক আশ্বাস না পাওয়া যায়, তবে সাংবাদিক সমাজ আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের দীর্ঘ সময়ে সাংবাদিক সমাজ বারবার বিচারের দাবিতে আকুতি জানিয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। এতে জনমনে গভীর হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

ডিআরইউ'র সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- ডিআরইউ'র সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদ স্বপন ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন এই সাংবাদিক দম্পতি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে করতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।