জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী মাসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের একটি নিয়ম রয়েছে এবং তা প্রতি মাসেই পর্যালোচনা করা হয়। আগামী মাসে দাম বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও দেশের শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।
জ্বালানি মজুতের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। এপ্রিলের মধ্যে আরও বিপুল পরিমাণ ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল আমদানি করা হবে।
এ ছাড়া কৃষকদের জন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন এবং প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ৪০ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সরকার জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন