দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আগামী ৩ মে’র পরিবর্তে ২০ এপ্রিল থেকেই সারা দেশে একযোগে এ কর্মসূচি শুরু হবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে রুমিন ফারহানা দেশে হামে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং টিকার মজুত সংকটের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, বিসিজি, পেন্টা, পিসিভি ও এমআরসহ একাধিক টিকার মজুত শূন্যের কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার শূন্য মজুত থেকে টিকা সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। পূর্ববর্তী সময়ে সরবরাহ ও ক্রয় ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে জরুরি ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিসেফের মাধ্যমে আরও বিপুল পরিমাণ টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে এখন পর্যন্ত ৪১ জন হামে মৃত্যুবরণ করেছেন। সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঢাকা নয়, বরং বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নেত্রকোণা অঞ্চলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকার কোনো সংকট থাকবে না এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।


