ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র নিয়ে ইসির নির্দেশনা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নথি দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) জারি করা এক পরিপত্রে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন নির্বাচন কমিশনের উপসচিব ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন।

ইসি জানিয়েছে, প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে হাইকোর্ট প্রার্থীদের ব্যক্তিগত, আর্থিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত আইনের অধীনে এখন নির্বাচনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে নির্ধারিত তথ্য এবং তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য ভোটারদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ কারণে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মূল কপির পাশাপাশি আরও দুটি অনুলিপি জমা দিতে হবে।

হলফনামায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সনদ সংযুক্ত করতে হবে। কোনো প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলে সেটিও উল্লেখ করতে হবে। আবার সর্বশেষ শিক্ষাগত সনদ হাতে না থাকলে, প্রাপ্ত অন্যান্য সনদ সংযুক্ত করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া, প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমান বা অতীতের কোনো ফৌজদারি মামলার তথ্য থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে। পুরোনো মামলার ক্ষেত্রে বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে, তবে কোনো দণ্ডপ্রাপ্তির তথ্য গোপন করা হলে মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে।

প্রার্থীর পেশা, আয়ের উৎস, দেশে ও বিদেশে সম্পদ এবং দায়-দেনার তথ্যও হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আয়কর রিটার্ন জমা থাকলে সেটির উল্লেখ করে সংক্ষিপ্ত তথ্য প্রদান করলেও চলবে, কারণ রিটার্নেই সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ থাকে।

যেসব প্রার্থী আগে সংসদ সদস্য ছিলেন তাদের ক্ষেত্রে পূর্বের নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অবস্থা সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। কোনো প্রতিশ্রুতি না থাকলে সেটিও উল্লেখ করা যাবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থী বা তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নেওয়া ব্যাংক ঋণের পরিমাণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্যও জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দাখিল করা রিটার্নের প্রত্যয়িত কপি ও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প বা কোর্ট ফি’র মাধ্যমে হলফনামা প্রস্তুত করে তা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে মনোনয়ন জমার সময় ২০ হাজার টাকা জামানত নগদে অথবা ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার কিংবা সরকারি ট্রেজারিতে নির্ধারিত কোডে জমা দিয়ে তার রসিদ সংযুক্ত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে।