ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সংরক্ষিত নারী আসন। সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত, যেখানে এমপিরা সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন এই পরোক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নির্বাচন যেভাবে হয়
আনুপাতিক হার: সাধারণ নির্বাচনের ৩০০ আসনের মধ্যে কোন দল বা জোট কতটি আসন পেল, তার ওপর ভিত্তি করে নারী আসন বণ্টিত হয়।
ভোটের অংক: বর্তমানে প্রতি ৬টি সাধারণ আসনের বিপরীতে ১টি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত।
ভোটদানকারী: সাধারণ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনের ভোটার। তবে সাধারণত দলগুলো তাদের প্রাপ্য আসন অনুযায়ী একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় বলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
ত্রয়োদশ সংসদে কোন দল কতটি আসন পাবে?
এবারের নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১১টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। স্থগিত থাকা আসনগুলোর ফল এলে এই সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
বিএনপি জোট : ২১২টি আসনের বিপরীতে বিএনপি জোট অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পেতে যাচ্ছে। বাকি স্থগিত ৩ আসনের ফল অনুকূলে এলে এটি ৩৬-এ দাঁড়াতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী জোট : ৭৭টি আসনের বিপরীতে তারা ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে।
স্বতন্ত্র ও অন্যান্য: স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যদি একটি মোর্চা গঠন করে, তবে তারাও অন্তত ১টি আসন পেতে পারেন।

