× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:৫২ এএম

কবে কাটবে বিদ্যুতের এই ঘোর অমানিশা?

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:৫২ এএম

ছবি  : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। জ্বালানি সংকট আর বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই লোডশেডিং এখন চরমে।

তবে বৈষম্যের চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বণ্টনে। শহরের মানুষ ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকলেও গ্রামের অনেক জায়গায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত মিলছে না বিদ্যুৎ। অসহনীয় এই গরমে জনজীবন যেমন অতিষ্ঠ, তেমনি ধসের মুখে পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাত।

দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল এখন খাদের কিনারে। একদিকে তীব্র লোডশেডিং, অন্যদিকে জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস ও ডিজেলের হাহাকার। 

সাভার-আশুলিয়ার শিল্পকারখানার কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা নেমে এসেছে ৩০-৪০ শতাংশে। বিদেশি ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ট্যানারিগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় পচে যাচ্ছে সংরক্ষিত কাঁচা চামড়া। ক্ষুদ্র কারখানাগুলো ডিজেল সংকটে জেনারেটর চালাতে না পারায় হয়েছে বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

দেশের গ্রাম অঞ্চলে বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে সেচ নিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুর, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, ময়মনসিংহ, যশোর ও বরিশালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সেচ পাম্প চালাতে না পেরে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি। 

ওইসব অঞ্চলের কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, দিনরাত সমানতালে লোডশেডিং চলায় ফসল রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফসল ঠিকমতো না ফললে না খেয়ে মরতে হবে।

দেশের একাধিক অঞ্চলে মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুতের অভাবে পুকুরে পানি দেওয়া যাচ্ছে না, আর তীব্র গরমে শেডেই মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মুরগি। 

এর পাশাপাশি হিমাগারগুলোতে আলু ও বীজ সংরক্ষণে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কোটি কোটি টাকার পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন হিমাগার মালিকরা।

এদিকে, তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ভুগছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অন্ধকারের মধ্যে পড়াশোনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। 

কেন এই পরিস্থিতি?

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বর্তমানে দেশে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমান চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। আদানি ও এসএস পাওয়ারের ইউনিট দুটি পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অন্তত ১২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানা যায়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!