ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার উদ্বোধন, যা জানা জরুরি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য তৈরি নতুন বদলি সফটওয়্যার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছ। তবে এর আগেই টেলিটকের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে সফটওয়্যারটি উন্মুক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। ফলে নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করে এর ড্যাশবোর্ড এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, আজ সকাল ১০টায় সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

উদ্বোধনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে চিঠি পাঠান। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে, যা ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় চিঠি ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা পাঠানো হতে পারে।

এর আগে, শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। এনটিআরসিএ প্রকাশিত প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে এই সুবিধা বন্ধ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বদলি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা সংশোধন করে আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হতে পারে।

বদলি সফটওয়্যারের ১৪টি ধাপ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে তৈরি এই অনলাইন সফটওয়্যারটি ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ডেমো আকারে চালু করা হয়। এতে আবেদন প্রক্রিয়াটি ১৪টি ধাপে সম্পন্ন হবে—

১। সফটওয়্যারে রেজিস্ট্রেশন/লগইন: শিক্ষকদের নিজস্ব ইনডেক্স নম্বর ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে লগইন করা।
২। ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই: শিক্ষকদের নাম, জন্মতারিখ, নিয়োগের ধরন, ইনডেক্স নম্বর যাচাই করা।
৩। বর্তমান প্রতিষ্ঠানের তথ্য: কর্মরত প্রতিষ্ঠানের EIIN, উপজেলা, জেলা ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা।
৪। প্রথম যোগদানের তারিখ: শিক্ষক হিসেবে প্রথম এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সঠিক তারিখ ইনপুট দেওয়া (২ বছর পূর্ণ হতে হবে)।
৫। বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ: বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করা।
৬। বদলির ধরন নির্বাচন: নিজ জেলা, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল বা বিশেষ বিবেচনার কারণ নির্বাচন করা।
৭। কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা: শিক্ষক যে প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চান, সেই প্রতিষ্ঠানের তালিকা নির্বাচন করা।
৮। শূন্য পদের তথ্য: কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ আছে কি না তা যাচাই করা (সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখাবে)।
৯। স্বামী/স্ত্রীর চাকরির তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরিজীবী হলে, তাদের ক্ষেত্রে স্থানান্তরের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার (priority) পাওয়ার তথ্য ইনপুট দেওয়া।
১০। অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা: যদি প্রযোজ্য হয়, অভিজ্ঞতা বা বিশেষ কোনো যোগ্যতা উল্লেখ করা।
১১। নথিপত্র আপলোড: বদলির আবেদনের সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজ (যেমন—স্বামী/স্ত্রীর চাকরির সার্টিফিকেট, বিবাহ সনদ ইত্যাদি) আপলোড করা।
১২। আবেদন জমা (Submit): সব তথ্য যাচাই করে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করা।
১৩। প্রধান শিক্ষকের সুপারিশ: আবেদনটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে পাঠানো।
১৪। যাচাই ও অনুমোদন: উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া।

বিশেষ নির্দেশনা

এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূলত যারা নিজ জেলার বাইরে কর্মরত, তারা নিজ জেলা বা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ পাবেন। তবে যারা ইতোমধ্যেই নিজ জেলা বা উপজেলায় কর্মরত, তারা নতুন নীতিমালার আওতায় বদলি হতে পারবেন না।