আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি ও তিন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে ‘জিতিয়ে আনা’ হবে না। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। সভায় তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন হতে পারে।
ক্ষমতায় আসার আড়াই মাসের মাথায় শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি ও এর তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল বিএনপির প্রথম বড় পরিসরের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন করে শীর্ষ নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বেলা পৌনে ১১টায় শুরু হওয়া রুদ্ধদ্বার এ সভা রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত চলে। মাঝখানে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি ছিল। সভায় ১১ জন মন্ত্রী বক্তব্য দেন এবং নেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্র থেকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের প্রায় এক হাজার নেতা এতে অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলা—দুই ক্ষেত্রেই কঠোর ও সুশাসনমুখী অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি ভালো আচরণের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রয়াত বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ তাঁদের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছে, তার প্রতিদান বিএনপিকে দিতে হবে। এজন্য নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাউকে জিতিয়ে আনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা অর্জন করেই সবাইকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো প্রশাসনিক প্রভাব বা দলীয় সুবিধা ব্যবহার করে কাউকে জেতানো হবে না বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে।
সভা সূত্র জানায়, মতবিনিময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাসহ কয়েকজন নেতা দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এক নেতা জিয়াউর রহমান–এর সময়কার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, তখন মানুষ দরজা খুলে ঘুমাত। সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। এ ক্ষেত্রে কারও পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যার যার ভুলত্রুটি আছে, তা শুধরে নিতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলায় শিথিলতার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে কিছুটা শিথিলতা ছিল। তবে এখন থেকে কঠোরভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। সামনে আর সহজভাবে দেখা হবে না, কঠোরভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন