হামের সংক্রমণ ও টিকার সংকটের কারণ অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে হামের সংক্রমণে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। টিকার সংকট কী কারণে তৈরি হয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, দায়সারা তদন্ত বা কাউকে দায়ী করাই উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রকৃত কারণ উদঘাটনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধ করাই মূল লক্ষ্য। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের কারণে জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই। হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচির প্রচার বাড়ানো এবং টিকার বাইরে থাকা শিশুদের দ্রুত আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় টিসিবির ট্রাক সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে।
আগামী ১৯ মে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণা থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের প্রভাবের কারণে নৌপরিবহন ভাড়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি বিবেচিত আগের বিভিন্ন চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ ছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াজাতের সক্ষমতা তৈরি হবে।
শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষককে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তথ্য উপদেষ্টা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


