× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত : কৃষিমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ভুল উৎপাদন নীতি ও পরিকল্পনার কারণেই দেশের কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি ধান কেনার ক্ষেত্রে বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ সরকারি নীতির কারণে সরকার সরাসরি সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে পারে না। এর ফলে একদিকে যেমন প্রান্তিক চাষিরা ফসলের সঠিক দাম পাচ্ছেন না, অন্য দিকে এই সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালেরা বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে পণ্যের বাজারজাতকরণ ও বিপণন ব্যবস্থার সংকট তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের প্রকৃত চাহিদার পরিমাণ উৎপাদনকারী তথা কৃষকদের জানা থাকে না। এই তথ্য ঘাটতির কারণে একদিকে যেমন উৎপাদন পর্যায়ে নানা সমস্যা তৈরি হয়, ঠিক তেমনি সাধারণ ভোক্তারাও বাজারে সঠিক দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন না। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আসলে আমাদের কৃষির মূল সমস্যাটি রয়ে গেছে পরিকল্পনাতেই। এই পরিকল্পনাগত ত্রুটি দূর করে দেশের সাধারণ কৃষককে বাঁচাতে এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী কয়েক হাজার ‘মিনি কোল্ডস্টোরেজ’ বা ছোট আকারের হিমাগার তৈরির একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষিখাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ও দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী সবসময় কৃষিকে নিয়েই চিন্তা করেন এবং তাঁর প্রধান পরিকল্পনার মধ্যেও রয়েছে কৃষি খাত। জাতীয় বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার যদি অপচয় না করা যায়, তবে সেই বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়েই দেশের কৃষির আমূল উন্নয়ন করা সম্ভব। 

একই সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানান, আসন্ন নতুন বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা সরাসরি কৃষি খাতের জন্য রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছে এবং আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যেই এই অর্থনৈতিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে।

একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষির আধুনিক রূপান্তরের মাধ্যমেই প্রান্তিক কৃষকদের নানামুখী আর্থিক সংকট দূর করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষিকে টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে হলে জমি, উৎপাদন এবং বিপণন—এই তিনটি প্রধান জায়গায় একযোগে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি দেশে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হচ্ছে, যা ঠেকাতে নতুন হিমাগার নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে অংশ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পশুর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভ্যাকসিন বা টিকা আমদানির ক্ষেত্রে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন থেকে দেশেই তা উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া পোল্ট্রি শিল্পে বা মুরগির খামারে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কোনোভাবেই করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। 

জাতীয় রাজনীতি ও সুশাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠে, তবে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের মতোই তাদেরও জনগণ কর্তৃক বিতাড়িত হতে হবে। তাই দেশের প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

Link copied!