ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নারী, শিশু ও পরিবারসহ অসংখ্য মানুষকে বাংলাদেশি পরিচয়ের সন্দেহে সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)।
সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বহু মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রোববার কলকাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর অভিযোগ করেন, নারী ও শিশুসহ অনেককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রহণ না করায় তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়ছেন। এপিডিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকে পড়াদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং মৌলিক সেবার অভাবে তারা মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই তাদের অবস্থান করতে হচ্ছে।
সংগঠনটির মতে, একদিকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের নাগরিকত্বের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে এসব মানুষ কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সরাসরি সুরক্ষা পাচ্ছেন না এবং সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিকে মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে এপিডিআর ভারতের কথিত ‘থ্রি-ডি’ নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, শনাক্তকরণ, বহিষ্কার এবং নাগরিক পরিচয় অস্বীকারের মতো পদক্ষেপ মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিজিবির অভিযোগ অনুযায়ী সম্প্রতি সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে। পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শূন্যরেখায় কয়েক ডজন মানুষকে অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই নিয়ম অনুসারেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশের দ্রুত সহযোগিতার আশাও প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দাবি, অবৈধ প্রবেশ রোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুসারে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উভয় বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় না থাকলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন