ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে মহাবিপর্যয় দেখা দিতে পারে বাংলাদেশে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০১:০০ এএম
ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতি যখন শান্ত থাকে, তখন বোঝার উপায় থাকে না মাটির নিচে কী ভয়ংকর বিপদ লুকিয়ে আছে। উপরিভাগের এই নীরবতা সবসময় স্বস্তির নয়; অনেক সময় এটি বড় কোনো দুর্যোগের আগাম সংকেতও হতে পারে। পৃথিবীর কোথাও শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে তা শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দূরবর্তী দেশগুলোর মানুষের মধ্যেও তৈরি করে আতঙ্ক। কারণ, ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত শক্তি যে কোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা ও ফিলিপাইনের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি।

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশ এমন একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত, যার নিচে সক্রিয় রয়েছে ডাউকি ফল্টসহ একাধিক বিপজ্জনক ভূ-চ্যুতি। সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ভূ-শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ৮ মাত্রারও বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্ম দিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের গবেষণায় দেখা গেছে, এই সঞ্চিত শক্তির সামান্য বহিঃপ্রকাশই ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। তার মতে, রাজধানীর মাত্র ১ শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার স্থাপনা ধ্বংস হবে এবং এতে সরাসরি প্রায় ৩ লাখ মানুষ হতাহত হতে পারেন।

অন্যদিকে, ২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, মাত্র ৭ মাত্রার ভূমিকম্পেই ঢাকার প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বিল্ডিং কোড অমান্য করে নির্মিত দুর্বল স্থাপনা এই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মহড়া, আধুনিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং কার্যকর উদ্ধার পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা যেতে পারে।

এখনই প্রয়োজন প্রস্তুতি—না হলে একটি বড় ভূমিকম্প মুহূর্তেই রূপ নিতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে।