ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতন, কারসাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার বদ্ধপরিকর।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে তার উত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান পরিচালনা করেছে। অনুসন্ধানে কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের তালিকা দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে সৃষ্ট বড় ধরনের বিপর্যয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে বাজার কারসাজি ও কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির ঘাটতি এবং সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া উল্লেখযোগ্য।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে— বিএসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করা, ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও এসএমই কোম্পানিকে বাজারে আনা, কারসাজি রোধে তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অডিট ফার্মগুলোর জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস, লভ্যাংশ আয়ের ওপর দ্বৈত কর বাতিল, পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ সৃষ্টি, সংস্কার ও বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক নজরদারি চালু, ই-কেওয়াইসি ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা এমন একটি উন্নত পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে এবং বাজারের প্রতি তাদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।