ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা। পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুমা বলেন, আমি কেবল ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তবে আমাদের মূল সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চে আমরা এখনো দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছি। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার জনগণের অনুদানে পরিচালিত একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হবে এবং সেই উদ্দেশ্যেই এটি ট্রাস্ট হিসেবে গড়ে তোলার কথা ছিল। কিন্তু শহীদ উসমান হাদী সেটি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা এটি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, শরীফ উসমান হাদী ভাই শহীদ হওয়ার পরও আমরা কালচারাল সেন্টারটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছি। কারণ এটি জনগণের সম্পদ; তাই জনগণের স্বার্থেই আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে গেছি। কিন্তু নানাবিধ কারণে এবং আপনারা দেখেছেন যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক অপপ্রচার ও লেখালেখি হয়েছে এমনকি এটিকে কেন্দ্র করে এক ধরনের আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে। তখন আমাদের মনে হয়েছে, এত অপবাদ নেওয়ার চেয়ে শহীদ উসমান হাদীর সম্মান রক্ষা করাটিই বেশি জরুরি।
শহীদ হাদী সম্পর্কে তিনি বলেন, শহীদ শরীফ উসমান হাদীকে জনগণ যেভাবে ভালোবাসে, সেই ভালোবাসার দায়বদ্ধতা রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার তার যে আত্মীয়স্বজনরা এটি দাবি করেছেন, তাদের হাতে তুলে দেওয়াই উত্তম।
সমসাময়িক বিতর্কের বিষয়ে জুমা বলেন, আমাদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি (ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার) মুখ্য নয়, বরং মূল সংগ্রামটাই মুখ্য। সেই সংগ্রাম আমরা ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে চালিয়ে যেতে পারব। এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আসার অর্থ এই নয় যে আমরা শহীদ উসমান হাদী কিংবা আমাদের যে লড়াই, তা থেকে পিছিয়ে এসেছি। সেই লড়াই আমরা অবশ্যই জারি রাখব হয়তো অন্য কোনো মাধ্যমে বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে।
এর আগে গত ৮ জুলাই এক ফেসবুকে স্ট্যাটাসে পদত্যাগের কথা জানান জুমা। সেখানে তিনি লেখেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বাংলাদেশপন্থি সংস্কৃতির স্বার্থে ইনকিলাবে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সংগঠনটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জুমা লেখেন, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশসংক্রান্ত জটিলতা সামনে আসে। ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে নানা আলোচনা, অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপে পড়েন।
তিনি পোস্টে লেখেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
জুমা আরও লেখেন, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের আগে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হলেও, এরপর থেকে তার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সব হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, ইনকিলাবের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সংগ্রাম অন্য কোনো মাধ্যমে চলবে।

