জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের জানিয়েছেন, জুলাইা গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ, সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদুল কাদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য ছিল তার। ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়ে হল ছাড়তে হলেও তিনি সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যান। কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় যখন অনেক জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক আত্মগোপনে ছিলেন বা যোগাযোগের বাইরে ছিলেন, তখন আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে ৯ দফা দাবি প্রণয়নের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, ১৭ জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।
তিনি বলেন, এ নিয়ে অন্যান্য সমন্বয়কদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ হয়।
তিনি দাবি করেন, ৯ দফা দাবির খসড়া তৈরির সময়ও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে আলোচনা হয়।
তার মতে, পুরো ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে লেজুড়বৃত্তিক ও নিপীড়নমূলক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি করা উচিত ছিল।
আবদুল কাদের আরও বলেন, ১ আগস্ট ডিবি হেফাজত থেকে কয়েকজন সমন্বয়ক মুক্ত হওয়ার পর কর্মসূচি ঘোষণা নিয়েও তার সঙ্গে সারজিস আলমের বিরোধ হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া তার কর্মসূচির বার্তা সারজিস আলম মুছে দেন এবং তাকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, সে সময় নাহিদ ভাই ও আসিফ ভাইয়ের সঙ্গে হাসনাত ভাই ও সারজিস ভাইয়ের মতপার্থক্য চলছিল। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় ছিলেন।
আবদুল কাদের বলেন, ৩ আগস্ট এক দফা দাবিতে যাওয়ার বিষয়েও মতভেদ ছিল।
তার দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলন এক দফার দিকে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের বর্তমান মূল্যায়ন করতে গিয়ে আবদুল কাদের বলেন, অনেক প্রত্যাশা পূরণ না হলেও তিনি আশাবাদী।
তার মতে, জুলাইয়ের আন্দোলন মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জবাবদিহির দাবি তৈরি করেছে।
নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে নতুন দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি আপাতত কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হচ্ছেন না। পরিবারের দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত কারণে রাজনীতি থেকে কিছুটা বিরতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক মানুষ। রাজনীতি অবশ্যই করব। তবে আপাতত পরিবারকে সময় দিতে চাই।

