ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ফাঁস!

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (কেকেএনপিপি)–সংক্রান্ত তথ্য ফাসের দায় স্বীকার করেছে ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের একটি র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, ডার্ক ওয়েবে তারা বিপুলসংখ্যক ফাইল প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কিছু স্থাপনার নকশা (ব্লুপ্রিন্ট) এবং সরবরাহকারীদের তথ্য রয়েছে।

হ্যাকারদের দাবি, ফাঁস হওয়া তথ্য ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। তবে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত পরিমাণ ও সংবেদনশীলতা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

রিলায়েন্স গ্রুপ জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান ইয়োটার (Yotta) হোস্ট করা একটি সার্ভারের মাধ্যমে আংশিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করেছে। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোর একটি। দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনায় এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে রিলায়েন্সসহ একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত নকশা বা প্রযুক্তিগত তথ্য থেকে থাকে, তবে তা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (এনপিসিআইএল) রিলায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সিইআরটি-ইন) ঘটনাটি তদন্ত করছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া নথিতে পারমাণবিক চুল্লির কোর সিস্টেম–সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। এই প্রযুক্তি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম সরবরাহ করে থাকে। তবে ফাইলগুলোর মধ্যে কুদানকুলাম প্রকল্পের ইউনিট ৩ ও ৪-এর ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের নকশা এবং একটি সাধারণ কন্ট্রোল রুমের ফ্লোর প্ল্যান থাকার দাবি করা হয়েছে।

মে মাসে সন্দেহজনক কার্যকলাপ

কুদানকুলাম কেন্দ্রকে ঘিরে এটিই প্রথম সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ম্যালওয়্যার শনাক্ত করা হয়েছিল। সে সময় এনপিসিআইএল জানিয়েছিল, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা হয় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালন ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়নি।

ভারতের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ভারত বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। দেশটিতে প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই তালিকায় ভারতের আগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স।

এদিকে, ডেটা সিকিউরিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিকরাইটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৩ শতাংশ জানত না তারা কখনো সাইবার হামলার শিকার হয়েছে কি না। এ ছাড়া ৫৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে মৌলিক সাইবার নিরাপত্তা চর্চার ঘাটতি রয়েছে।

কুদানকুলাম তথ্য ফাঁসের ঘটনা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ হলে ফাঁস হওয়া তথ্যের প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।