টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিময় আবহাওয়ার মধ্যেই গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ সময় পরীক্ষার আয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর জেরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষা বয়কটের আহ্বান জানানো একটি ভিডিও। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পক্ষে পরীক্ষা বয়কটের ডাক দেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী রেদোয়ান মাহিন।
সমাবেশে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, রেদোয়ান মাহিন নিজে কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী নন। তিনি বর্তমানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির জামালপুর জেলা শাখার একজন সংগঠক বলেও জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রেদোয়ান মাহিন নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি আমার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি একাদশ শ্রেণিতে পড়ি, তাই এইচএসসি পরীক্ষা বয়কটের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি আরও বলেন, আমি সিনিয়রদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়ে তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলাম। তবে যেভাবে পরীক্ষা বয়কটের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছি, সেটি আমার ভুল ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।
এদিকে, রেদোয়ান মাহিন এইচএসসি পরীক্ষার্থী নন—এ তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পরীক্ষার্থী না হয়েও কীভাবে তিনি পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা বয়কটের আহ্বান জানালেন। আবার কেউ কেউ এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট

