ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

৪০ বিমান নিয়ে হাসিনাসহ দেশে ফেরার ঘোষণা, সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরস

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ৪০টি চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে নেতাকর্মীরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে দলীয় এক সভায় দেওয়া তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে অবস্থান করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, উনি (শেখ হাসিনা) যাবেন, উনি মোকাবিলা করবেন। উনি বলেছেন, উনি যাবেন। আমাদের সমস্ত নেতাকর্মী এখানে যারা আছেন এই ইংল্যান্ড থেকে ১০টি চার্টার্ড বিমান যাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে। আমেরিকা থেকে যাবে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যাবে, মিডল ইস্ট (মধ্যপ্রাচ্য) থেকে যাবে। সব মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি বিমান একসঙ্গে ঢাকায় গিয়ে নামবে। উনি (শেখ হাসিনা) সামনে থাকবেন, আমরা ওনার পেছনে থাকব।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনারা যার যার জায়গা থেকে কথা বলুন, প্রবাস থেকে সোচ্চার হোন।
এদিকে, প্রবাসীদের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে সাবেক মেয়রের দেওয়া এমন অবাস্তব ও নাটকীয় বক্তব্য ফেসবুকে শেয়ার করে নানারকম টিপ্পনি কাটছেন সাধারণ নেটিজেন ও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এতগুলো বিমান একসঙ্গে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেখানে ট্রাফিক জ্যাম লেগে যাবে এবং সেগুলো রাখার জায়গা হবে কোথায়?

কেউ কেউ রসাত্মকভাবে লিখেছেন, ৪০টি বিমান একসাথে গিয়ে থামবে কই! সায়েদাবাদ আর গাবতলী বাস স্ট্যান্ড তখন খালি করতে হবে মনে হচ্ছে। অন্য একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, এতগুলো বিমান ল্যান্ড করার জন্য তো আলাদা বিমানবন্দর তৈরি করতে হবে। আবার কেউ সাবেক মেয়রের দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন, কে যেন বলেছিল, পালাব না। তাহলে বাবু বাহিরে কেন গেলা?

অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং প্রবাসে বসে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ও সান্ত্বনা দিতেই তিনি এমন অবাস্তব ও কাল্পনিক রূপকথার মতো বক্তব্য দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতেও, এটি মূলত কর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা। তবে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বক্তব্যটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যতম প্রধান ট্রল এবং নিছক কৌতুক ও বিনোদনের খোরাকে পরিণত হয়েছে।