ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মার্জিন বিধিমালা সংশোধন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান বিএসইসির

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ‘মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অসম্পূর্ণ ও অনুমাননির্ভর তথ্যের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ বক্তব্য দিয়েছে।  জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়া প্রকাশের পূর্বেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুঁজিবাজারের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির অনুসারে, সম্প্রতি বিএসইসির ১০২০তম কমিশন সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধনের একটি খসড়া প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  তবে কমিশন লক্ষ্য করেছে যে, সংশোধিত খসড়া বিধিমালাটি জনমত যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে অসম্পূর্ণ, অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।  এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযাচিত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কমিশন।

বিএসইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫ সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হলো- বিদ্যমান বিধিমালার প্রয়োগকালে উদ্ভূত বাস্তব ও ব্যবহারিক জটিলতাগুলো দূর করা।  বিধিমালাকে আরও সহজ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করা।  বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য এর প্রয়োগকে অধিকতর সুবিধাজনক করে তোলা।

কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, এই সংশোধন প্রস্তাব প্রণয়নের ক্ষেত্রে মার্জিন সুবিধা ব্যবহারকারী, স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির মূল লক্ষ্য হলো বাজারে একটি কার্যকর, বাস্তবমুখী এবং বিনিয়োগকারী-সহায়ক মার্জিন ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশোধিত খসড়া বিধিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।  এ বিষয়ে কমিশনের গৃহীত পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হলো-

১. জনমত যাচাই: কমিশন সভায় অনুমোদিত খসড়াটি খুব শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.sec.gov.bd) প্রকাশ করা হবে।

২. মতামত গ্রহণ ও পর্যালোচনা: বাজার সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের কাছ থেকে মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে এবং তা প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করা হবে।

৩. চূড়ান্ত অনুমোদন: সকল পর্যালোচনা শেষে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে।

জনমত যাচাইয়ের পূর্বেই সংশোধিত বিধিমালার বিষয়ে অনুমাননির্ভর বা আংশিক তথ্য প্রকাশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি। কমিশন বিশ্বাস করে, প্রকৃত খসড়া প্রকাশের পর বিধিমালার উদ্দেশ্য, পরিধি এবং সংশোধনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে সকলের কাছে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষাকে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কমিশন কাজ করে উল্লেখ করে বিএসইসি জানায়, মার্জিন বিধিমালার এই সংশোধনও সেই নীতিরই একটি ধারাবাহিক অংশ।