ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করছেন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে। সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এখন প্রায় নিশ্চিত এবং এটি খুব শিগগিরই কার্যকর হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলেও জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি তার অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে শিগগিরই বঙ্গভবন ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন কোনো ব্যক্তিকেই এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল, সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় সে সময় বিএনপি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।