ঢাকা রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

রাকসুর মনোনয়ন ফরম বিতরণের শেষ দিনে যা যা ঘটল

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০৩:২৩ পিএম
রাকসু শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা উত্তেজনার পর। ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বেলা ২টার দিকে নির্বাচন কমিশন ফরম বিতরণ শুরু করে।

প্রথম বর্ষের ভোটার অন্তর্ভুক্তির দাবি

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং কার্যালয় তালাবদ্ধ করে। কর্মসূচিতে সংহতি জানায় বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাব ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি করছি। তারা রাকসুর ফি দিয়েছে, কিন্তু ভোট দিতে পারছে না। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করব।’

হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি

মনোনয়ন ফরম বিতরণের প্রার্থীরা বেলা ১১টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে উপস্থিত হন। দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর ছাত্রদলকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বলা হয়। এর মাঝে দফায় দফায় স্লোগান, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। বেলা ১টার দিকে ছাত্রদলকে পিছু হটিয়ে কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল নেয় শিক্ষার্থীরা।

শিবিরের অংশগ্রহণ

এদিকে বেলা দেড়টার দিকে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করলে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, জুতা ও বোতল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আমরা শুধু মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছি, কাউকে প্রতিবাদ করতে বা প্রতিরোধ করতে আসিনি।’

প্রশাসনের অনুপস্থিতি

বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হতে দেখা যায়, তবে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হন।

ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরু

টানা পাঁচ ঘণ্টার উত্তেজনার পর বেলা ২টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল, সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার, মেহেদী সজীব, আকিল বিন তালেবসহ অনেক প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন।

ছাত্রনেতাদের বক্তব্য

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘প্রশাসন নিজে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনকে দায়িত্ব দিলে নির্বাচনের মাঠ নিরুত্তাপ হবে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে।’

সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, ‘আমরা ফরম সংগ্রহ করতে গেলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দেখেছি, যা স্বাধীন নির্বাচন পরিচালনার জন্য উদ্বেগজনক।’

সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘ছাত্রদল যাদের ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্তি দাবি করেছে তাদের এখনো হল সংযুক্ত হয়নি। আমরা সময়মতো ফরম সংগ্রহ করেছি।’

নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য

রাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদলের কর্মসূচিতে কিছু শিক্ষকও বক্তব্য দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি গ্রহণ করেছি, তবে নতুন নতুন দাবিতে আন্দোলন করা উদ্বেগজনক।’