১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ করেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, অনেক নিচের গ্রেডের পদও নবম গ্রেডে আপগ্রেড হয়েছে। শুধু এই দশম গ্রেডের সহকারী শিক্ষক পদটির ন্যায্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো নড়াচড়া নেই।
তারা বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার এজন্য আন্দোলন করেছেন তারা। তবে এবার দাবি আদায় করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
এর আগে, মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, দাবিগুলো নতুন নয়, সবই বকেয়া। বিধি মোতাবেক ১৯৯১ সাল থেকে নবম গ্রেড পাওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকদের পদটি দশম গ্রেডেই রাখা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ ২০০৪ সালে ১৮তম গ্রেডে ছিল। কিন্তু বিগত ২০ বছরের আন্দোলনে বর্তমানে ১১ গ্রেডে উন্নীত হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে।অথচ ১৯৭৪ সাল থেকেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডের এবং বিগত ৫০ বছর কোনো গ্রেড পরিবর্তন হয়নি। সবচেয়ে বড় বৈষম্যের বিষয় হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বদলিযোগ্য পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর পদটি ১৯৯৬ সালে নম গ্রেডে উন্নীত হলেও সহকারী শিক্ষক এখনও দশম গ্রেডে পড়ে রয়েছে।
তারা জানান, সমগ্রেডের সমাজসেবা কর্মকর্তা, পুলিশের ইন্সপেক্টর, সাব-রেজিস্টারসহ অসংখ্য পদ বিগত এক দশকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও রহস্যজনক কারণে সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়নি।
এদিকে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১০ হাজার ৮৮৪ জন শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭ হাজার ৯০০ শিক্ষক। অর্থাৎ শূন্যপদ রয়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২৭ শতাংশ শূন্যপদের শিক্ষক দিয়ে বাকি শিক্ষকদের শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার বাধ্য করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাশের ক্লাসরুম ফাঁকা রেখে ক্লাস নেওয়ার পরিবেশই নেই। ফলে শিক্ষকদের সারা বছর অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে, যা তাদের প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপের শিকার করছে এবং পাঠদানের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেড়গুণ বেশি ক্লাস নিলেও বেতন সেই দশম গ্রেডেই রাখা হয়েছে। বিগত ৫০ বছরে বেতন গ্রেড ও পদমর্যাদার কোনো উন্নয়ন হয়নি।
জানা যায়, সরাকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ২০১৭ সাল থেকে বিসিএস ননক্যাডার থেকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের প্রায় ৫০ শতাংশ ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৪১ ও ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার তালিকা থেকে এবং ২০২২ সালে পিএসসির বিশেষ নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত।


