ঢাকা রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

রোহিতের ব্যাটে ৩৫২তম ছক্কা, যা এখন ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৪:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় ক্রিকেটের ‘হিটম্যান’ হিসেবে পরিচিত রোহিত শর্মা ৩৮ বছর বয়সে পৌঁছেও যেন আরও অপ্রতিরোধ্য। তিনি শুধু একটি ম্যাচ খেলেননি, ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি ভেঙে দিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি শাহিদ আফ্রিদি-র (৩৫১) একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) তে সর্বাধিক ছক্কার বিশ্বরেকর্ড!

স্বদেশের মাঠে, নিজের পরিচিত পরিবেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওডিআই সিরিজে খেলতে নেমেছিলেন রোহিত। মাত্র দুটি ছক্কার দূরত্বে ছিলেন আফ্রিদির রেকর্ড থেকে। তবে রোহিত শর্মা তো দ্রুতগতিতেই রেকর্ড গড়ার জন্য বিখ্যাত। মাত্র ২৭৭ ম্যাচে এই বিশাল কীর্তি গড়েন আফ্রিদির চেয়ে অনেক কম ম্যাচ খেলে।

এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে রোহিতের নাম এখন বিশ্বসেরা ছক্কা-হিটম্যানদের তালিকার একেবারে শীর্ষে, যেখানে তার সঙ্গী ক্রিস গেইল, এমএস ধোনি, সানাথ জয়াসুরিয়া, এবি ডি ভিলিয়ার্স-এর মতো কিংবদন্তিরা।

আজ আফ্রিকার বিপক্ষে শুরুর দিকে ভাগ্য কিছুটা সহায় ছিল। প্রথম ছক্কাটি মারার সময়ই টনি ডি জোর্জি তার ক্যাচটি ফসকে দেন। কিন্তু একবার ব্যাটে-বলে সংযোগ স্থাপন হওয়ার পর আর পিছু ফিরে তাকাননি 'হিটম্যান'।

বিরাট কোহলির সঙ্গে ক্রিজে জুটি বাঁধতেই যেন তার পুরনো আগ্রাসী রূপ ফিরে আসে। মারকো জ্যানসেনের বিরুদ্ধে ব্যাকফুট পাঞ্চ, আবার কোরবিন বসচের বিরুদ্ধে একের পর এক বাউন্ডারি – যেন প্রতিটা শটে তার নিজস্ব ছন্দ আর খেলার গতিতে যোগ করে চলেছিল নতুন রঙ।

শুরুতে সময় নিলেও নিজস্ব স্টাইলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন রোহিত। তবে আসল মুহূর্তটি আসে জ্যানসেনের একটি বলে প্যাডে লাগার পর। আফ্রিদির ৩৫১ ছক্কার রেকর্ডে সমতা আনেন তিনি।

এবং তার পরের বলেই— ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ— অফ-স্পিনার প্রেনেলান সুব্রায়েনের বিরুদ্ধে একটি দুর্দান্ত স্লগ সুইপ মেরে তিনি নিজের ৩৫২তম ছক্কাটি হাঁকান! সেই মুহূর্তেই ভেঙে যায় শাহিদ আফ্রিদির দীর্ঘদিনের বিশ্বরেকর্ড, রচিত হয় নতুন ইতিহাস।

বর্তমানে রোহিত শর্মা যেকোনো ব্যাটসম্যানের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ২৩০টির বেশি ছক্কা মারার কীর্তি গড়েছেন। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ বিরাট কোহলি এখনও তার থেকে প্রায় ১০০টি ছক্কার পিছনে রয়েছেন।

যদিও ৫৭ রানে থাকার সময় সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন রোহিত, জ্যানসেনের একটি বল তাঁর প্যাডে লাগলে তিনি আউট হয়ে যান। ডিআরএস নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোহলির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর তিনি সেই সুযোগ নেননি।