ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হামলাকারী ফয়সালের স্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৫:৫৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া আদালতকে জানিয়েছেন, ঘটনার দুই থেকে তিন দিন আগে ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সর্বশেষ দেখা হয়।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রিমান্ড শুনানিতে আদালতের কাছে তিনি এ তথ্য দেন।

সামিয়া বলেন, “ঘটনার দুই-তিন দিন আগে ফয়সাল করিমের সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয়। তিনি বাসা থেকে কিছু কাপড় নিয়ে যান। এর বাইরে তার বিষয়ে আমি আর কিছু জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “ফয়সাল অনেক সময় গভীর রাতে আমার কাছে আসতেন এবং সকালে চলে যেতেন। এর বেশি যোগাযোগ হতো না। ঘটনার আগের দিনগুলোতে তিনি আমার সঙ্গে ছিলেন না—এটা আমি বারবার বলছি। ঘটনার দিন তিনি মারিয়া আক্তার লিমার সঙ্গে ছিলেন।”

এদিকে এ মামলায় ফয়সালের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ও ফয়সালের প্রেমিকা মারিয়া আক্তার লিমার পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানিতে মারিয়া আক্তার লিমা আদালতকে বলেন, “কিছু আর্থিক সমস্যার কারণে ফয়সাল আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিল।”

এর আগে সোমবার বিকেলে ডিবি কার্যালয় থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে র‍্যাব তাদের আটক করে। পরে হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও প্রেমিকাকে আটকের আগে হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে আটক করে র‍্যাব। পরে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সোমবার দুপুরে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। গুলির ঘটনার পর থেকে সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসমান হাদির এক আত্মীয় মামলার বাদী বলে জানিয়েছেন পল্টন থানার ডিউটি অফিসার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল হাসান। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।