ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর নামের গরুর পর এবার রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট কাঁপাচ্ছে ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি’ ও ‘হামাস’। দেড় টন ও এক টন ওজনের বিশাল আকৃতির গরু দুটি শুধু আকারেই নয়, ব্যতিক্রমী নাম আর এর পেছনের বার্তার কারণেও কৌতূহল তৈরি করেছে হাটজুড়ে। কেউ ভিড় করছেন এক নজর দেখতে, কেউ তুলছেন ছবি, আবার কেউ জানতে চাইছেন কেন এমন নাম রাখা হলো গরু দুটির।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে দেখা মিলেছে ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি’ ও ‘হামাস’ নামের এই দুটি গরুর। ঝিনাইদহ থেকে গরু দুটি নিয়ে এসেছেন প্রান্তিক খামারি সানোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের অনেক নেতার নীরবতার মধ্যেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ খামেনির দৃঢ় অবস্থান, সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে অনুপ্রাণিত হয়েই দেড় টন ওজনের একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি’।
অন্যদিকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হামাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এক টন ওজনের আরেকটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘হামাস’।
সানোয়ার হোসেন বলেন, দেড় টনের ‘খামেনি’ গরুটির দাম ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। কেউ যদি ‘খামেনি’ গরুটি কেনেন, তাহলে তার সঙ্গে এক টনের ‘হামাস’ গরুটি সম্পূর্ণ ফ্রি দেওয়া হবে। খামারির এমন ঘোষণা মুহূর্তেই হাটে উপস্থিত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দেয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের গল্প পৌঁছে দিতেই আমি এমন নাম বেছে নিয়েছি। শুধু গরু বিক্রি নয়, এর মাধ্যমে আমি সমাজের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, মুসলিম বিশ্ব যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তিনি জানান, ফিলিস্তিনের মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যে নির্যাতন চলছে, তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব মুসলিম নেতারা যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
চার বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো আদর-যত্নে গরু দুটি বড় করেছেন বলেও জানান এই খামারি। প্রতিদিন গরুগুলোর খাবারের পেছনে খরচ হয় প্রায় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। দেশীয় খাবার, সবুজ ঘাস, ভুসি ও খৈল খাইয়ে গরুগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে কোরবানির বাজারের জন্য।
হাটে আসা দর্শনার্থীরা জানান, শুধু আকার নয়, ব্যতিক্রমী নামের কারণেও গরু দুটি সবার নজর কাড়ছে। অনেকে গরুর সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করছেন।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই গাবতলী হাটজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ সময় সানোয়ার হোসেন আয়তুল্লাহ খামেনির পরিবার ও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের জন্য দোয়া কামনা করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন