সুদানে জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তি রক্ষীর মধ্যে লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়ার মরদেহ আজ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌঁছেছে।
রোববার বিকেলে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গাইবান্ধার হেলিপ্যাডে মরদেহ নামানো হয়। এরপর সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে নিহতের বাড়ি উপজেলার ছোট ভগবানপুরে পৌঁছানো হয়। নিহত সবুজকে দেখতে গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী নুপুর আকতার কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ‘আমার আর মা হওয়ার আশা পূর্ণ হলো না। সবুজ বলেছিল, এবার ছুটিতে এসে সন্তান নেবেন। কিন্তু সেই আশা অপূর্ণ থেকে গেল। আমাদের ভবিষ্যত কী হবে, আমরা কী খাব, কী নিয়ে বাঁচব জানি না।’
নিহত সবুজ মিয়া পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভগবানপুর) গ্রামের। শোকার্ত মানুষ এক নজর দেখতে আসেন তাকে।
নিহত বীর সৈনিক সবুজ মিয়ার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয়। তিনি মৃত হাবিদুল রহমান ও সাকিনা বেগমের ছেলে। ২০১০ সালে সবুজ মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। তিনি এক বছর আগে নাটোর জেলায় বিবাহিত হন। গত নভেম্বর মাসে তিনি সুদানে জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনে যান।
মরদেহ গাইবান্ধার হেলিপ্যাডে নামানোর সময় লাশ গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন মুহতাসিন আলভি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহম্মেদ, জামায়াত ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেনাবাহিনীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি আমলাগাছির ছোট ভগবানপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সেনাবাহিনীর গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে তার বাবার কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন হয়।
সবুজ ২০১০ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ৩টা ৪০ থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন