× UCB Sticker Card
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

এ এইচ এম ফারুক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

মতামত

পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা প্রসঙ্গে

এ এইচ এম ফারুক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সুউচ্চ পাহাড় আর মেঘের মিতালির আড়ালে প্রতিনিয়ত এক ভয়ংকর ও কুৎসিত রাজনৈতিক খেলা মঞ্চস্থ হচ্ছে। এই খেলার নাম 'ধর্ষণের সাম্প্রদায়িকীকরণ'। সমতল ভূমির সাধারণ মানুষ যখন যেকোনো নারীর ওপর হওয়া নির্যাতনকে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে দেখে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে, তখন পাহাড়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ধর্ষণকে স্রেফ অপরাধ হিসেবে নয়, বরং বিচার করা হয় অপরাধীর জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক পরিচয় দিয়ে। ধর্ষক যদি বাঙালি হয়, তবে রাতারাতি সমগ্র বাঙালি জাতিকে ‘ধর্ষক’ তকমা দিয়ে পাহাড় থেকে বাঙালি উচ্ছেদ এবং সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের এজেন্ডা শুরু হয়, রাজপথ কাঁপায় হিল উইমেন্স ফেডারেশন তথা স্বশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ-জেএসএস’র দোসররা। আর ধর্ষক যদি স্বজাতি বা উপজাতি হয়, তবে রহস্যময় এক গভীর নীরবতায় ছেয়ে যায় পুরো পাহাড়। প্রথাগত বিচারের নামে নামমাত্র জরিমানা বা সালিশের প্রহসন করে ধামাচাপা দেওয়া হয় একের পর এক নির্মম অধ্যায়। নারীর শরীর ও সম্ভ্রম এখানে মানবাধিকারের মাপকাঠি নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার।

পাহাড়ে নারী সম্ভ্রমকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানোর এই নোংরা সংস্কৃতির সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণটি মঞ্চস্থ হলো খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায়। গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রি. হাফছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম কুকিছড়া এলাকার এক মারমা তরুণী (৩০) এক পৈশাচিক ও নির্মম গণধর্ষণের শিকার হন। একটি বেসরকারি গ্রুপে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে একই ইউনিয়নের বড়ইতলী এলাকার ম্রাসা মারমা (৩৮) ও তার সহযোগীরা তাকে অবর্ণনীয়ভাবে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৪ জুন ভুক্তভোগীকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থা এতই সংকটাপন্ন ছিল যে, ঘটনার ৫ দিন পরও তিনি সুস্থ হতে পারেননি। এ সময় সামাজিক ও আঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের চাপে ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা চললেও অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে গত ১৭ জুন ২০২৬ খ্রি. বুধবার তাকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ঘটনার দিন পেরিয়ে গেলেও এই অসহায় নারী হাসপাতালের বেডে তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

কিন্তু এই ঘটনায় পাহাড়ের তথাকথিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের ভূমিকা কী? ধর্ষক স্বজাতি হওয়ায় পুরো পাহাড় জুড়ে এখন এক রহস্যময় ও অপরাধমূলক নীরবতা। প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল ও প্রথাগত সমাজপতিরা চাচ্ছেন না যে এই ঘটনাটি আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত পৌঁছাক। পাহাড় ও সমতলের তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো, যারা কথায় কথায় নারীর অধিকার ও উপজাতি নারীদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশন কিংরা প্রেস ক্লাব এবং রাজপথ গরম করে, তারা এই মারমা তরুণীর পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনায় সম্পূর্ণ মুখে কুলুপ এঁটেছে।

অথচ এই নীরবতা পাহাড়ের জন্য নতুন কিছু নয়; এটি তাদের দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত 'সিলেক্টিভ জেন্ডার পলিটিক্স' বা সুবিধাবাদী রাজনীতিরই অংশ। অতীতেও পাহাড়ে যখনই কোনো উপজাতি নারী তার নিজের সম্প্রদায়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বা স্বজাতীয়দের দ্বারা অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তখনই এই অপরাধগুলোকে অত্যন্ত সুচতুরভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে কিংবা রাঙামাটির নানিয়ারচরে যখনই কোনো উপজাতি তরুণী তাদের নিজেদের ভেতরের আঞ্চলিক দলের সশস্ত্র ক্যাডারদের দ্বারা লাঞ্ছিত বা ধর্ষিত হয়েছে, তখন প্রথাগত কার্বারী বা হেডম্যানদের সালিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে নামমাত্র অর্থদণ্ড বা মদ-শূকর জরিমানা করে অপরাধীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। উগ্রপন্থী আঞ্চলিক দলগুলোর ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মুখ খুলতে সাহস পায়নি। আর সুশীল সমাজ সেই ঘটনাগুলোকে 'সামাজিক অবক্ষয়' বা 'পারিবারিক বিরোধ' বলে এড়িয়ে গেছে। কিন্তু ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় যখন কোনো ঘটনায় বাঙালি বা নিরাপত্তা বাহিনীর দূরতম কোনো সম্পর্কও আবিষ্কার করা যায়। তখন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি বা বান্দরবানের রুমা—যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ ঘটনাকেও আন্তর্জাতিক মহলে 'রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইউপিডিএফ বা জেএসএস-এর মতো সশস্ত্র দলগুলো।

পাহাড়ে ধর্ষণসহ খুন বা অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদ হবে কি না, তা মূলত নির্ভর করে ভুক্তভোগী আর অভিযুক্তের জাতিগত পরিচয়ের ওপর। বাঙালি কর্তৃক উপজাতি নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেই রাজপথ উত্তপ্ত হয়, হরতাল-অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়। যেমন—অতিসম্প্রতি ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়ছড়িতে এক হিন্দু কিশোরের বিরুদ্ধে মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর, সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও 'জুম্ম ছাত্র-জনতা'র ব্যানারে ২৬ সেপ্টেম্বর খাগড়াড়ছড়িতে অর্ধবেলা সড়ক অবরোধ ও হরতাল পালন করা হয়, যেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িও আটকে দেওয়া হয়। হামলার শিকার হয় সেনা সদস্যরা এবং ভাঙচুর হয় সেনাযান।  ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় সেটার বিচার চেয়ে এই প্রতিবাদ করা আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক একটা বিষয় হলেও প্রশ্ন ওঠে দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে। কারণ, ভুক্তভোগী ও অপরাধী উভয়েই উপজাতি হলে পাহাড়ের এই তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো রহস্যজনকভাবে অন্ধ ও বধির হয়ে যায়। পাহাড়ের বিগত এক দশকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এমন অসংখ্য ঘটনার অকাট্য প্রমাণ মেলে বান্দরবানে ২০২৫ সালে ১৯ আগস্ট পাঁচ মারমা যুবক এক মারমা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করলেও কোনো সংগঠন প্রতিবাদ করেনি। ঘটনা চেপে গিয়ে স্থানীয় সালিশে শূকর জরিমানা দিয়ে বিচার করা হয়। একই ভাবে ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের কলাতলীতে এক চাকমা দম্পতির ওপর উপজাতি যুবক বীরেল চাকমা হামলা চালায়। স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী ও খুনি একই সম্প্রদায়ের হওয়ায় পাহাড়ের কোনো সংগঠন একটি বিবৃতিও দেয়নি।

২০১৭ সালে খাগড়াছড়িতে ইতি চাকমাকে গলা কেটে হত্যার পর বাঙালিদের দায়ী করে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তদন্তে দেখা যায়, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তুষার চাকমাসহ ৫ চাকমা যুবক এই খুন করে।

২০১৭ সালে পানছড়িতে বালাতি ত্রিপুরাকে হত্যাকাণ্ডের পর বাঙালিদের দোষারোপ করা হলেও মাত্র ছয়দিনের মাথায় পুলিশ খুনের মূল নায়ক উপজাতি কার্বারী সাধন ত্রিপুরাকে গ্রেপ্তার করে। (সূত্র: দৈনিক পূর্বকোণ)।

২০১৬ বাঙালি ছেলের দোকানে কলেজে ভর্তির আবেদন করতে যাওয়ার 'অপরাধে' পিসিপি নেতারা আয়না চাকমাকে যৌন নির্যাতন করে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে উল্টো তাদের মুক্তির দাবিতে উপজাতি সংগঠনগুলো হরতাল ডাকে। (সূত্র: পরিবর্তন ডটকম)।

২০১৪ সালে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে বিশাখা চাকমার লাশ পাওয়ার পর বাঙালিদের বিরুদ্ধে সমাবেশ হলেও পরে দেখা যায়, বিশাখার স্বামী লক্ষীরামের উপস্থিতিতে সঞ্জয়, তত্তারাম ও বিনোদ চাকমা মিলে এই ধর্ষণ ও হত্যা করেছিল। (সূত্র: সিএইচটি টাইমস)।

বান্দরবানে ব্র্যাক শিক্ষিকা উ প্রু মারমাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক নিরীহ বাঙালি কাঠুরিয়াকে পিটিয়ে মারা হয়। অথচ তদন্তে মূল খলনায়ক প্রমাণিত হয় উপজাতি যুবক বিজয় তঞ্চঙ্গ্যা। (সূত্র: পার্বত্য নিউজ)।

২০১৪ সালে  খাগড়াছড়িতে সবিতা চাকমার লাশ পাওয়ার পর বাঙালি ট্রাক চালক ও হেলপারকে দায়ী করে ধর্মঘট ডাকা হয়। অথচ উপজাতি চিকিৎসকে ঠাসা হাসপাতালে ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামতই মেলেনি।

এই দ্বৈত আচরণ ও সুপরিকল্পিত অপপ্রচার পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, পাহাড়ে নারীর সম্ভ্রমকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতীক ও বাঙালি বিতাড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্বজাতীয় অপরাধীদের আড়াল করার এই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে পাহাড়ের সাধারণ নারীদের নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত হবে না।

এই দ্বিমুখী নীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, বর্তমানের এই মারমা তরুণী গণধর্ষণের ঘটনায় পাহাড়ের প্রধান উগ্রবাদী আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ, জেএসএস (সন্তু লারমা), হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পিসিপি সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। কোনো বিবৃতি নেই, কোনো প্রতিবাদী মিছিল নেই। কারণ একটাই, ধর্ষক এখানে কোনো বাঙালি বা সরকারি বাহিনীর সদস্য নয়, ধর্ষক তাদের নিজেদের 'স্বজাতি'। অনেকটা একই নীরবতা দেখা যায় উপজাতি কর্তৃক বাঙালি নারী ধর্ষণ বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে। বিচার এখানে জাতি দেখে হয়, ন্যায় দেখে নয়।

তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং কিছু নৃবিজ্ঞানী প্রায়শই খুব চতুরতার সাথে সমতলের মানুষের সামনে প্রচার করেন যে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা অত্যন্ত সরল এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে নাকি 'ধর্ষণ' শব্দের কোনো প্রতিশব্দই নেই! এটি যে কত বড় একটি ঐতিহাসিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত মিথ্যাচার, তা পাহাড়ের ভেতরের সাধারণ নারীরা সবচেয়ে ভালো জানেন। 'ধর্ষণ প্রতিশব্দ নেই'—এই মনগড়া ও রোমান্টিক তত্ত্বের আড়ালে মূলত উপজাতি সমাজের ভেতরের অপরাধগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আড়াল করা হয়। প্রথাগত সালিশের নামে ভুক্তভোগী নারীকে আজীবন লোকচক্ষুর অন্তরালে অবর্ণনীয় মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য করা হয়, অথচ অপরাধী বীরদর্পে সমাজে ঘুরে বেড়ায়।

তবে আশার কথা হলো, উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দল ও ভণ্ড সমাজপতিদের এই নগ্ন ভণ্ডামির বিরুদ্ধে এবার খোদ পাহাড়ের সাধারণ উপজাতি যুব সমাজ নিজে থেকে জেগে উঠেছে। তারা প্রচলিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সশস্ত্র ইউপিডিএফ-জেএসএস ও প্রথাগত নেতৃত্বের এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজেরা ধর্ষককে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে এবং এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। তরুণ প্রজন্মের এই প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে, পাহাড়ের সাধারণ মানুষও এখন এই সিলেক্টিভ জেন্ডার পলিটিক্সের নোংরা খেলা ধরে ফেলেছে।

পাহাড়ে 'নারী সম্ভ্রম' কেন বারবার নোংরা আঞ্চলিক রাজনীতির হাতিয়ার হবে? বাঙালি বা নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তা হবে জঘন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ, আর উপজাতি কেউ ধর্ষক হলে সামাজিক সালিশের মাধ্যমে ক্ষমা—এই ভণ্ডামি এবার চিরতরে বন্ধ হওয়া দরকার। অপরাধীর কোনো জাতি বা সম্প্রদায় হয় না, অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে 'অপরাধী'। স্বজাতীয় ধর্ষকদের আড়াল করার এই প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুরোপুরি ধ্বংস করা না হলে, পাহাড়ের সাধারণ ও নিরীহ উপজাতি নারীরা কোনোদিনই তাদের নিজেদের সমাজের উগ্রবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিরাপদ হতে পারবেন না। এই দ্বিমুখী ও ভণ্ড রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই পাহাড়ের প্রতিটি অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। (পার্বত্য চট্টগ্রাম, রোহিঙ্গা ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক)

Link copied!