আমজনগণ পার্টির নিবন্ধন দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের হঠাৎ ইউ-টার্নে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দলটির আহ্বায়ক ডক্টর মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। তিনি মনোনয়ন দাখিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় দেওয়ার দাবি জানান। দু-একটি রাজনৈতিক দলের অনৈতিক চাপ যারা নিতে পারেন না, তারা কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করবে, এমন প্রশ্ন রাখেন রফিকুল আমীন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রফিকুল আমীন ছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল আমীন বলেন, আমি রাষ্ট্রের স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের অন্যায় আচরণের বিষয়ে জানাতে ও প্রতিকার চাইতে এসেছি। পতিত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মিথ্যা মামলায় ১২ বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলাম। আমাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। আমার সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারাগারে থাকাকালীন পরিকল্পনা ছিল একটি রাজনৈতিক দল করার, যেখানে প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না, সাধারণ মানুষ বিকল্প খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নতুন ধারার রাজনীতি করার সংকল্প নিয়ে এ বছরের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করি। আমি দলটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দলটিতে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে দলের কার্যক্রম মজবুত ও বিস্তৃত করতে সহযোগিতা করে।
তিনি আরও বলেন, নিজ দলের প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে গত ২২ জুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। একটি কেন্দ্রীয়, ২৩টি জেলা ও ১০৩টি উপজেলা ও থানায় কার্যালয় এবং কমিটি গঠন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা-২০০৮-এর সকল শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা দেয় বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি। দলের দেওয়া সকল তথ্য মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করেন। তবে সবকিছু সঠিক পাওয়ার পরও ‘অধিকতর পর্যালোচনা’ হবে বলে জানানো হয়। কেন অধিকতর পর্যালোচনা হবে, তার কারণ জানায়নি নির্বাচন কমিশন।
রফিকুল আমীন বলেন, কমিশন পর্যালোচনা করবে বললেও গত ৯ অক্টোবর সারাদেশে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির তথ্য পুনঃতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, তা নির্বাচন কমিশন থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এই ধাপে অতিরিক্ত এমন অনেক তথ্য কর্মকর্তারা চান, যা অপ্রাসঙ্গিক। দলের সদস্যদের যোগদানের প্রত্যয়ন, অফিস ভবনের মালিকদের এনআইডি, জমির দলিল-পর্চা চাওয়া হয়।
এতে নেতাকর্মীরা চরম হয়রানির মধ্যে পড়ে। অথচ এই বিধান নতুন নিবন্ধিত দলের তদন্তের সময় কার্যকর করেনি নির্বাচন কমিশন। পুনঃতদন্তেও সকল তথ্য সঠিক পায় নির্বাচন কমিশন। তদন্ত, পর্যালোচনা, অধিকতর পর্যালোচনা ও পুনঃতদন্ত শেষে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টিসহ তিনটি নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিতে গত ৪ নভেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসি।
তিনি বলেন, গত ১৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন গণবিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া তিনটি নতুন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দুইটি রাজনৈতিক দলকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেয়। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সে সময় জানান, বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির বিষয়ে কিছু আপত্তি আসায় শুনানি করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে সেই শুনানি কবে হবে, তা এখনো জানায়নি নির্বাচন কমিশন। আমজনগণ পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী, তা আজও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে কিছুদিন পূর্বে জনৈক ব্যক্তির কল রেকর্ড ফাঁস হয়, যেখানে তাকে আমজনগণ পার্টির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। অর্থাৎ, যে অভিযোগ জমা পড়েছে, সেগুলো বেনামি ও পরিকল্পিত।
রফিকুল আমীন আরও বলেন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা-২০০৮-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয়ে পরিচিতি জারির পর গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে এভাবে যাচাইয়ের নজির বাংলাদেশে নেই। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার কোনো নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিতে না চাইলে গণবিজ্ঞপ্তি জারির কাজটি করত।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পারি গত ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। তফসিল পরবর্তী সময়ে বন্ধের দিনেও গুরুত্বপূর্ণ অফিস, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে সকল কার্যক্রম চলমান থাকে। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন দেখে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন দুয়ারে দাঁড়িয়ে—এমন সময়ে দল নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পেন্ডিং রেখে নির্বাচন কমিশন প্রমাণ দিচ্ছে, তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় না এবং অতীতের জালিমের ভূমিকা থেকে সরে আসতে পারেনি।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন