ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাতের মধ্যে মাহদী হাসানকে মুক্তি দিতে হবে : রিফাত রশিদ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০১:৩৯ এএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। ছবি- সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে এ দাবি জানান তিনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, ডিবি পুলিশ সাদা পোশাকে মাহদীকে তুলে নিয়ে গেছে, যা ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে দেখা গেছে। হাসিনার পুলিশ আর ড. ইউনূসের পুলিশের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তখনও মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো, এখনো দেওয়া হচ্ছে, প্যাটার্ন বদলায়নি।

তিনি বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকলেও দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবকে সমুন্নত রাখতে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।

এ সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-

১. রাতের মধ্যে মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

এর আগে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে আটক করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে বসে মাহদী হাসান থানার ওসির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়ান। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে ছাত্রসমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।