তারুণ্যের স্বপ্ন ও চাহিদাকে সামনে রেখে কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় ঐক্য জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফেনীর গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন সেন্টারে ‘তারুণ্যের ভাবনায় সংস্কার’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান।
সভায় তরুণ সংগঠকদের ভাবনা, দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় ফেনীর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন মঞ্জু। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফেনীর তারুণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট সার্ক রিজিয়নের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং নিউজ সিভিএম ডটকমের সম্পাদক দিদারুল আলম মজুমদার। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুহাইমিন তাজিম।
এছাড়া ফেনীতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কয়েকশ তরুণ এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের দেশে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান—এই পাঁচটি অধিকার সবাই সমানভাবে ভোগ করতে পারে না। আমরা চাই, এই পাঁচটি অধিকার সবাই সমানভাবে ভোগ করুক। এই পাঁচটি বিষয়ের নিশ্চয়তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। অধিকার বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।
গণসংযোগকালে তিনি ছনুয়া বাজার, টঙ্গীরপাড়, কোম্পানি বাজার ও কাজিরদিঘি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের সমস্যা ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন।
মঞ্জু বলেন, সবাই তো কাজ করবে না, করতেও পারবে না। যারা কাজ করবে, তাদেরকে দায়িত্ব দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে। রাষ্ট্রের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যার ঘর নেই তার জন্য রাষ্ট্র থেকে ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। যার খাবার নেই তার জন্য রেশন ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। এরপরও অভাব দূর হয় না কেন? অভাব দূর হয় না মূলত দুর্নীতির কারণে। সরকার পাঁচ লাখ টাকা দিলে তিন লাখ টাকা মেরে দেওয়া হয়। ঘর নির্মাণ করতেও অর্ধেক টাকা আত্মসাৎ করা হয়। আমরা চাই, দুর্নীতিমুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হোক।
তিনি আরও বলেন, যাকে ভোট দিলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হবে—তাদেরকেই সুযোগ দিন, বিবেচনা করুন। আমরা ওয়াদা দিচ্ছি, আমরা কারও হক মেরে খাব না, বরং যারা অধিকার বঞ্চিত, তাদের অধিকার আমরা রক্ষা করব।
ছনুয়ায় গণসংযোগকালে জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, প্রচার সম্পাদক আনম আবদুর রহিম, এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব ফজলুল হক, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা ইমরান, সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন