দেশ সম্পর্কে যাদের বাস্তব ধারণা নেই, তারা দেশের মানুষকে কীভাবে মুক্তি দেবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানী বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘৫ আগস্টের মতো ১২ ফেব্রুয়ারির পরও দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটবে। তবে সেই পরিবর্তন ইতিবাচক হবে, নাকি নেতিবাচক—সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনগণকেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে ১২ ফেব্রুয়ারির পর চাঁদাবাজির ঘোষণা দিচ্ছে। ভোটের মাধ্যমেই জনগণকে সেই শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অনেকে বড় বড় পরিকল্পনার কথা বললেও গত ১৭ মাসের কর্মকাণ্ডে তাদের আসল চেহারা স্পষ্ট হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যে প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। দেড় বছর ধরে তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছে। জনগণের স্বার্থ সামনে রেখে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অথচ চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারার জন্য কিছু দল প্রতিটি আসনে তিন-চারজন করে প্রার্থী দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু জেলায় জেলায় গিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে। নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ থাকা সত্ত্বেও সেখানে মেডিকেল করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কুমিল্লায় ৩৫ বছর ধরে ইপিজেড থাকার পরও নতুন করে ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহে ভুট্টা চাষ হয়, অথচ বলা হচ্ছে সেখানে সয়াবিন চাষ হয়। যে দেশ ও দেশের মানুষের বাস্তব সমস্যাই জানে না, তারা কীভাবে দেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখে?’
বক্তব্যের শেষাংশে আসিফ মাহমুদ বলেন, জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজপথ, অলিগলি ও গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের পক্ষে রায় দেবে, নাকি বিদেশে আরাম-আয়েশে বেড়ে ওঠা, সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট না জানা নেতৃত্বের পক্ষে যাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন