জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপিসহ ১১টি দলের সমন্বয়ে সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষা খাতে, মুখস্থনির্ভর পাঠ্যক্রম বাদ দিয়ে ডিজিটাল ও ব্যবহারিক দক্ষতা যুক্ত করা হবে। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো, অভিভাবকদের জন্য ‘অভিভাবক সংযুক্তি অ্যাপ’ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধাসহ নিরাপদ স্কুল বাস সার্ভিস চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে এবি পার্টি চেয়ারম্যান রাষ্ট্র সংস্কার, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন, নাগরিক সেবা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিসহ একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচন ছিল সরাসরি ‘সাজানো প্রহসন’। এসব নির্বাচনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি, রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছামতো। তার ভাষায়, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বাংলাদেশ আজও একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ হিসেবে তিনি দুর্নীতি, দখলবাজি, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষের প্রাণ ও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তা ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তার মতে, জুলাই কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপিসহ ১১টি দলের সমন্বয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট’ গঠনের কথা জানান এবি পার্টি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, এই জোটের ভিত্তি হলো জুলাই সনদে উত্থাপিত ৮৪টি সুপারিশ। তার মতে, সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশ সামনে এগোতে পারবে না।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এবি পার্টি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একটি কার্যকর উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
এবি পার্টির ইশতেহারে ৯টি খাতে ৬৮টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার বাস্তব সমাধান দেওয়া।
স্বাস্থ্য খাতে, প্রতিটি নাগরিককে ‘হেলথ আইডি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং দুর্গম অঞ্চলে ভাসমান ফার্মেসি চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।
আবাসন ও পরিবহনে, মধ্যবিত্ত ও তরুণদের জন্য ‘ভাড়ায় মালিকানা’ ভিত্তিক আবাসন প্রকল্প, বাস সিন্ডিকেট ভেঙে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং উচ্চগতির ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা বলেন তিনি।
কর্মসংস্থানে, জাতীয় কর্মসংস্থান মিশন গঠন এবং ‘ন্যাশনাল ইউথ স্টার্টআপ ফান্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিবছর অন্তত এক লাখ তরুণ উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবি পার্টি চেয়ারম্যান।
আইনের শাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আইন সবার জন্য সমান নয়। ঋণখেলাপিদের জন্য এক নিয়ম, সাধারণ মানুষের জন্য আরেক নিয়ম—এই দ্বৈতনীতি ভেঙে ফেলতে হবে।
পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশকে কারও বলয়ের মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক সমাধান এবং সীমান্ত হত্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনতে স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট চালুর কথাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক অনুশীলন নয়। এটি ঠিক করে দেবে বাংলাদেশ আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে, নাকি সামনে এগোবে।
তিনি ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও পরিকল্পনা দেখে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষাংশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় দেওয়ার এবং ‘ঈগল’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক, মর্যাদাবান ও নাগরিকবান্ধব ‘বাংলাদেশ ২.০’ গড়ার সংগ্রামে শামিল হওয়ার ডাক দেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন