গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বলয়ে সীমাবদ্ধ হওয়া চলবে না। জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব এককভাবে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আপনারা (জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা) জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হয়েন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জুলাই নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, আমাদের সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকারে থেকে, পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধান বাতিল করতে চাচ্ছেন— এটা আসলে হয় না।
তিনি বলেন, কেউ কথা বললেই তাকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাকে আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন আমরা তেলের দাম নিয়ে কথা বললেও বলা হতো, ওরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। এখন আমি সেই একই আচরণ দেখতে পাচ্ছি।
বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা শেষ ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। সুতরাং আপনারা এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়, যেন জুলাইয়ে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নাই! ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি, জেলে গিয়েছি। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও কিন্তু শহীদ হয়েছে। অবদান কারো কম নয়।
তিনি বলেন, আপনারা গণভোটে চারটি বিষয় দিয়েছেন। কিন্তু, কোনো ভোটার যদি একটি বিষয়ে একমত না হয় তবে সে কী করবে? হ্যাঁ-তে ভোট দেবে নাকি না-তে? আপনারা তো তাকে বাধ্য করেছেন। সনদের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে দিলেন না?
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সারা জীবন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে এখন তাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। আবার সারা জীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে ভোটের জন্য শেষে এসে বলছেন— আমরা শরিয়াহ আইন চাই না। প্রবলেম কী? আমার কথাগুলো একটু ম্যানুভার করেন। আপনারা পজিটিভ পলিটিক্স নিয়ে আসেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন