ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ ঘটনায় মতামত প্রকাশ করেছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ভোলা পৌরসভার নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার এসআই জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, বিশ্বস্ত সূত্র ও সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারি, বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ‘Redmi Note 9’ মোবাইলে লগইনকৃত ফেসবুক আইডি ‘Sawoda Sumi’ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তার মোবাইল ফোন হেফাজতে নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, তিনি সরকার, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধে জড়িত সন্দেহে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামী সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আমির মুহাম্মদ জাকির হোসাইনের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. হারুন অর রশীদ। সেখানে দাবি করা হয়, ‘কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ প্রমাণ ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও অতীতে এ ধরনের আইনের অপব্যবহার হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ জানান, বিবি সাওদার তিন বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যার দেখভালের জন্য মায়ের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের অনুরোধ উপেক্ষা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
শেষে তারা বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন এবং গ্রেপ্তারের পেছনের নির্দেশদাতাদের পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানান। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন