নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা প্রসঙ্গে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে এ আহ্বান জানান।
সিরাজুল হক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো পুনর্গঠনের এক প্রবল অভিপ্রায় সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার, বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার, ধসে পড়া নির্বাচনী ব্যবস্থার পুনর্গঠন, আইন ও বিধি-বিধানের সংস্কার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতামূলক ও দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।’
রোডম্যাপ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ফ্যাসিবাদীদের বিচার এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।’
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির বলেন, ‘প্রস্তাবিত জুলাই সনদ ২০২৫-এর আইনি ভিত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য জুলাই সনদের ওপর গণভোট অথবা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি বিকল্প হতে পারে। সময়ের স্বল্পতার বিবেচনায় আমরা মনে করি- রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি রচিত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে এনে তার ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। কালো টাকা, পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
এ সময় তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে যৌথ বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন চালিয়ে রক্তাক্ত করার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, ‘এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি নুরুল হক নুরুসহ আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’
অধ্যাপক সিরাজুল হক জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকারকে নিচের ৬টি পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। ৬ দাবি হলো-
১. বিগত ১৬ বছরের সব ধরনের নির্যাতন, গুম, খুনের বিচার করতে হবে।
২. আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আরপিও সংশোধন করতে হবে।
৪. প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. নির্বাচনী আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিতে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনকে প্রস্তুত করতে হবে।
৬. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, কালো টাকার ব্যববহার রোধ, পেশিশক্তির নিয়ন্ত্রণ ও সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ২৭টি আসনে খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন